আমাদের রান্নার দিদির ২৪ বছরের ছেলেটা স্ট্রোকে হঠাত ই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।আমি আর মা রোববার ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম।ক্যানিং স্টেশন থেকে ভ্যান এ থোমকাঠি পৌঁছলাম।সেখান থেকে হেঁটে আমি আর মা কুমড়োখালির শেষপ্রান্তে ওদের বাড়িতে পৌঁছলাম।আমাদের নিয়ে যেতে যে ছেলেটি এসেছিল সাইকেল থাকা সত্বেও সে আমাদের সঙ্গে আধ ঘন্টা হাঁটল।পুত্রহারা মা কে আর কি সান্ত্বনা দেব!
অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে মানুষ করেছিল।তামিলনাডুতে ৫ বছর রান্নার কাজ করে টাকা জমিয়ে ঘর করেছে।স্বামী অনেক আগেই আরেকটা বিয়ে করে আলাদা।ছেলে আর মেয়ের মুখ চেয়েই ছিল তার বেঁচে থাকা।দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার পুত্রবধূকে যাকে বালিকাবধূ ই বলা চলে,কোলে তার ৯ মাসের শিশুকন্যা।বৈধব্যের যন্ত্রণা তাকে এখনো ছুঁতে পারে নি বলে মনে হল।দু চোখে বিস্ময়।এটা কি সত্যি, এমন একটা ভাব।আমার অন্তরাত্মা যেন পুড়ে খাক হয়ে গেল ওকে দেখে।পুত্রহারা এবং স্বামীহারা দুজনেই আমাদের গ্রাম বাংলার মা।দিদি বলল,'মেয়ের ননদ কে ভালবেসে ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম।ওর যে এত বড় সর্বনাশ করছি বুঝি নি'।
বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দিলাম।ভ্যান নেই।আবার হাঁটতে শুরু করলাম।সেই ছেলেটাই পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল।এতটা পথ একদিনে হাঁটার অভিজ্ঞতা না থাকলেও একটুও কষ্ট হয় নি কারণ আমার নিত্যসঙ্গী বিবেক যেমন টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছিল সেভাবেই ফিরিয়ে আনল।৬২ বছর বয়সী মা ও অবলীলায় অতিক্রম করল এতটা পথ।আমার মনে হল বিবেক কে বলি---তোমার জন্যই এই কাজটুকু করতে পেরেছি।মানুষের কাছে মহান নয় স্বাভাবিক আখ্যা পেতে চাই মাত্র।পথে খেতের ধারে একটি মেয়ে আরেকটি মেয়ে কে আমাদের দেখিয়ে বলল "বড়লোক'।
এ দেশে বড়লোক হওয়াটা তো সত্যি অপরাধ।কিছুদিন আগেই প্রবল বৃষ্টির জন্য গন্তব্যে ঠিক সময়ে পোঁছতে পারি নি।মনে মনে ভাবছিলাম একটা গাড়ি থাকলে ভালই হত।খাবার নেই,পোশাক নেই,বাড়ি নেই---তাদের কথা ভেবে লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল।এর পর সারা রাস্তায় আমার কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল একটাই শব্দ 'বড়লোক'।
অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে মানুষ করেছিল।তামিলনাডুতে ৫ বছর রান্নার কাজ করে টাকা জমিয়ে ঘর করেছে।স্বামী অনেক আগেই আরেকটা বিয়ে করে আলাদা।ছেলে আর মেয়ের মুখ চেয়েই ছিল তার বেঁচে থাকা।দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার পুত্রবধূকে যাকে বালিকাবধূ ই বলা চলে,কোলে তার ৯ মাসের শিশুকন্যা।বৈধব্যের যন্ত্রণা তাকে এখনো ছুঁতে পারে নি বলে মনে হল।দু চোখে বিস্ময়।এটা কি সত্যি, এমন একটা ভাব।আমার অন্তরাত্মা যেন পুড়ে খাক হয়ে গেল ওকে দেখে।পুত্রহারা এবং স্বামীহারা দুজনেই আমাদের গ্রাম বাংলার মা।দিদি বলল,'মেয়ের ননদ কে ভালবেসে ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম।ওর যে এত বড় সর্বনাশ করছি বুঝি নি'।
বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দিলাম।ভ্যান নেই।আবার হাঁটতে শুরু করলাম।সেই ছেলেটাই পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল।এতটা পথ একদিনে হাঁটার অভিজ্ঞতা না থাকলেও একটুও কষ্ট হয় নি কারণ আমার নিত্যসঙ্গী বিবেক যেমন টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছিল সেভাবেই ফিরিয়ে আনল।৬২ বছর বয়সী মা ও অবলীলায় অতিক্রম করল এতটা পথ।আমার মনে হল বিবেক কে বলি---তোমার জন্যই এই কাজটুকু করতে পেরেছি।মানুষের কাছে মহান নয় স্বাভাবিক আখ্যা পেতে চাই মাত্র।পথে খেতের ধারে একটি মেয়ে আরেকটি মেয়ে কে আমাদের দেখিয়ে বলল "বড়লোক'।
এ দেশে বড়লোক হওয়াটা তো সত্যি অপরাধ।কিছুদিন আগেই প্রবল বৃষ্টির জন্য গন্তব্যে ঠিক সময়ে পোঁছতে পারি নি।মনে মনে ভাবছিলাম একটা গাড়ি থাকলে ভালই হত।খাবার নেই,পোশাক নেই,বাড়ি নেই---তাদের কথা ভেবে লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল।এর পর সারা রাস্তায় আমার কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল একটাই শব্দ 'বড়লোক'।