Friday, 28 February 2014

সাধ
মিতিল চক্রবর্তী

আমি এক সাদা খাতা।
আবিরের রঙ এখনো লাগে নি গায়ে।
কোন উদীয়মান কবি লেখে নি
কাব্যকাহিনি আমার পাতায়।
সদ্য শিল্পী কাটে নি আঁচড়
খোঁড়ে নি হৃদয় আমার বুক চিরে।
বিবর্ণ পতিত জমি আমি।
ফসলের সম্ভাবনায় বুক বাঁধি।
যখন বর্ষণক্লান্ত হয় শহর,
আমার চোখেও ওঠে কান্নার ঢেউ।
কাশের বনে যখন হাওয়ার কানাকানি
আমিও সাদা মেঘ হয়ে থাকি।
বসন্তের মাতাল হাওয়া যখন বয়ে যায়
 উদাস মন বাতাস ছুঁতে চায়।
রামধনু রঙ মাখার স্বপ্ন বুকে বাঁচি।
জানি আসবে সুদিন।সবটুকু সাদা
রাঙিয়ে দেবে কোন এক মরমিয়া।
বিষাদ ডানা মেলে উড়ে যাবে সুদূরে।



Thursday, 27 February 2014

দেওয়াল
মিতিল চক্রবর্তী

পলেস্তারা খসে যাওয়া নোনা ধরা দেওয়াল,
তবু শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে আছি।
গায়ে আমার শ্যাওলার পরিধান।
উইয়ের ঢিবি বুকে নিয়ে বেঁচে আছি।
ফাটলে ফাটলে মৃত্যুর পরোয়ানা।
মাধবীলতা এক হঠাত জড়িয়ে উঠল গা বেয়ে।
মাথাটা নুইয়ে রইল লজ্জায়।
এর আগে অপাঙক্তেয় মনে হয়েছিল নিজেকে।
কেউ আজও স্বনির্ভর হতে পারে নি।
মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বলতে ইচ্ছে করে
আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছো তুমি,
তোমার জন্যই যুগ যুগান্ত বেঁচে থাকা।

Wednesday, 26 February 2014


অপাঙক্তেয়
মিতিল চক্রবর্তী

শবাসনে পড়ে আছি।
ধড়ে যেন নেই প্রাণ,
হৃদয় বলে কিচ্ছু নেই।
অবলীলায় মাড়িয়ে যাচ্ছে সবাই।
কোনদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।
পরনের বস্ত্র শতচ্ছিন্ন,
লজ্জা নিবারণে নিরুপায়।
রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছি।
পাই নি সহৃদয়তার মলম।
জন্মান্ধ পথিকের দল হেঁটে চলেছে,
মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেছে।
নেই কোন স্মৃতিবিদূরতা।
হঠাত এক পথিক এসে থমকে গেল।
কপালে একটু হাত বুলিয়ে
ডেকে আনল দুই দরদীকে।
এ কি মানুষ না দেবতা?
কাটে নি এখনো বিস্ময়ের ঘোর।
এ কি বাস্তব নাকি স্বপ্নিলতা?



Monday, 24 February 2014


উত্তরণ

মণিমাণিক্য, হীরে জহরত নয়
হৃদয় দিতে চেয়েছিলাম তোমায়।
নেবার ভান করে ছুঁড়ে ফেলে দিলে।
মেঘ হয়ে ভেসে গেলাম আকাশে।
বৃষ্টির অঝোর ধারায় নেমে এলাম।
জমা জলে ভাসিয়ে দিল নৌকা
অন্য কেউ এক বৃষ্টিদিনে।
পুনর্জন্ম হল আমার।
আমি যে এত দামী
এর আগে বুঝিই নি কখনো।
আয়নায় দেখি নিজের প্রতিবিম্ব।
এত সুন্দর আগে তো লাগে নি আমায়।

ভালোবাসা কি শরীরের খুঁত ঢেকে দেয়?