Thursday, 8 May 2014

উপহার বিভ্রাট

তুলিঃ ছোটবেলায় ভাবতাম বিয়ে হলে কি মজা হবে।কত উপহার পাব।

রিয়াঃ সত্যি বিয়েতে মেয়েরাই পায়।বর বাবাজী বৌ এবং তার সঙ্গে উপহারের বোঝা বহন করে।

সুমিঃ আমার মনে হয় এমন কিছু দেওয়া উচিত যা দুজনেরই কাজে লাগবে।

অনির্বাণঃ যেমন বই,বেড কাভার,দেওয়াল ঘড়ি...।

সুমিঃ ঠিক তাই।অধিকাংশ লোকই শাড়ি দেয় আর তা নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়।

রিয়াঃ হ্যাঁ রে আমার বৌদির পাওয়া কয়েকটা শাড়ি আলমারিতে তোলার আগেই ভ্যানিস।

সুজয়ঃ আমার বাবার এক সহপাঠী বলেছিল মেয়েদের কলকল কথা বন্ধ করার জন্য কয়েকটা শাড়ি সামনে ফেললেই যথেষ্ট।হাহাহা।

রিয়াঃ জিন্স পরিহিতা আধুনিকারাও সানগ্লাস মাথায় তুলবে।

অনির্বাণঃ রিয়া তোর বয় ফ্রেণ্ড এ বছর জন্মদিনে কি দিয়েছে রে?

রিয়াঃ তোকে বলবো কেন? হাহাহা।

অনির্বাণঃ Top secret.অন্য কিছু নয় তো?

সুজয়ঃ আমাদের মধ্যে একজন অনেক্ষণ নীরব।এ বিষয়ে ওর কোন বক্তব্যই নেই।

তুলিঃ অনি যা কিপটে কি বলব!

সুজয়ঃপ্রথম বিবাহবার্ষীকীতেও কিচ্ছু দেয় নি?

তুলিঃ না।অথচ দেখ আমি একটা গোলাপ কিংবা একটা কলম পেলেই খুশি হই।

অনির্বাণঃ  This is not fair.তোর মত সোনা বৌ পেলে আমি তো দিয়ে দিয়ে ভরিয়ে দেব।

রিয়াঃ অন্য কেউ নেই তো?

তুলিঃ কি জানি এক বছরেই ভালোবাসাটা ঝিমিয়ে পড়েছে।

সুজয়ঃ বলেই ফেলি তুই ই আমার First crush.তোর ভালোর জন্য যদি কিছু করতে পারি।

তুলিঃ Feviquick দিয়ে কি আর সম্পর্ক জোড়া যায় রে?

সুমিঃ পরিবেশটা বড় ভারি হয়ে গেল।কেউ একটা মজার কথা বল।

রিয়াঃ জানিস আমার বৌদি জন্মদিনে আমায় একটা শাড়ি দিল।প্যাকেটটা পুরনো পুরনো।
খুলে দেখি যে শাড়িটা আমি বৌদিকে দিয়েছিলাম সেটাই আমার কাছে অন্য মোড়কে ফিরে এসেছে।

সমবেত কন্ঠঃ হাহাহাহা।

সুজয়ঃ পাওয়া শাড়ি থেকে দেওয়ার অভ্যেস।কে কোনটা দিয়েছে মনে রাখা দায়।

অনির্বাণঃ একেই বলে উপহার বিভ্রাট।
[মিতিল চক্রবর্তী,৯।৫।১৪]




Friday, 21 March 2014

আত্মহত্যা নয়

দুঃসহ দুর্দিনে যখন
মৃত্যুর সঙ্গে করতে চেয়েছিলাম সখ্য
তখন বুঝি নি অশ্রু দিয়ে মালা গেঁথে
বসে আছে কেউ আমার প্রতীক্ষায়।
ব্যস্ত সে কেবলই রাতপাহারায়
কখনো রেললাইনের ধারে,
কখনো হাওড়া ব্রিজের মাথায়।
সে এক অদৃশ্য প্রেমিক।
মরতে মরতেও মরতে পারি নি।
পাতাল রেলে যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি
বেজে উঠল রবিঠাকুরের গান-
'ও যে মানে না মানা ---------
আঁখি ফিরাইলে বলে না,না,না '
কি এক আবেগে আপ্লুত হয়ে
মাটি আঁকড়ে পড়ে রইলাম।
আরো অনেক,অনেক গান
শুনব বলে বেঁচে আছি আজও।
[মিতিল চক্রবর্তী,২০।৩।১৪]

Wednesday, 12 March 2014

নির্যাতিতার উক্তি

আমার বুকে ছুরি মারো তুমি,
বলবো না কাকে ভালোবাসি আমি।
ঘর থেকে বিতাড়িত করো যদি
তবুও থাকব নীরব,নিশ্চুপ।
আগুনে পুড়িয়ে জ্বালিয়ে দিলেও
উচ্চারণ করব না তার নাম।
আমায় শ্বাসরোধ করতে পারো তুমি।
পারবে হত্যা করতে ভালোবাসাকে?
তার ব্যাপ্তি যে কত দূর দিগন্ত বিস্তৃত,
কতটা নিষ্কাম তার পরিধি
বুঝবে তোমার মত প্রেমহীন পুরুষ?
[মিতিল চক্রবর্তী,১১।০৩।১৪]


Monday, 10 March 2014

দাম্পত্য

সময়ের সিঁড়ি বেয়ে এক ছাদের নিচে এত বছর
শুধু তুমি,আমি আর সম্পর্কের সাক্ষী চার দেওয়াল।
অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে ভালোবাসার বিয়ে।
আমার মানচিত্রের প্রতিটি খাঁজ,তিল,কাটা দাগ
তোমার খুব চেনা,অথচ কতটুকু চেনো আমায়?
আজও হৃদয়ের পূর্বাভাস তোমার অজানা।
কখন বয় ঝোড়ো হাওয়া,সমুদ্রের গর্জন,
নিষ্পাপ পথ চাওয়া,মরুভূমির নিস্তব্ধতা
নেমে আসে কখন জানো না তুমি আজও।
কতটুকু ভালোবাসো আমায়?
ফাগুনে আগুনে মাখামাখি যখন আর
পলাশে, শিমুলে,কৃষ্ণচূড়ায় লালে লাল
জানো না তুমি আমার আকাশে কখন আসে
কখন যে যায় মধুচন্দ্রিমার পুণ্য লগন।

[মিতিল চক্রবর্তী, ২৫।০২।১৪]

Saturday, 8 March 2014

তোকে

অহরহ কেন মাতৃহৃদয়
টগবগ করে খুনে?
আমার আদর্শ রোপণ করতে
পারি নি কোন ভ্রূণে।
সান্ত্বনা যেন মিশে আছে
বসন্ত সমীরণে।
অপারগ আমি,পারি নি তোকে
আনতে এ ভুবনে।
আম্রমুকুলে ফুটেছে আজ
নতুন সম্ভাবনা।
অশ্রুধারা বইছে কেন?
তুই যে রে অজানা।
[মিতিল চক্রবর্তী]




পতিব্রতার উক্তি

আমার প্রতিটি হৃৎস্পন্দন
তোমার স্পন্দনে মিশে যায়।
মিলে যায় সুর,তাল,লয়।
আমার কথাটি ফুরলো
নটে গাছটি মুড়লো
তোমার সাথে হবে না কোনকালে।
তাই কি এত নীরব তুমি,
হৃদয়ে হৃদয় জড়ালে।
শাশুড়ি,ননদ কানে দিলে মন্ত্রণা
ভুল হয় নি বুঝতে তোমার
 গোপন,গভীর যন্ত্রণা।
বিচ্ছেদ হবে তোমার সাথে
যমদূত কাছে এলে।
হয় তোমাকে নয় আমাকে
যেতেই হবে চলে।
প্রার্থনা করি তোমার আগে
যেন না যাই আমি।
আমি যে তোমার নয়নমণি
জানেন অন্তর্যামী।
নারীহৃদয় ঝর্ণা যেমন
পাথরও কখনো হয়।
সইতে পারে সবই সে যে
নেই তো তার ক্ষয়।
জন্মান্তর আছে কিনা
জানি না ঠিক আমি।
থাকলে যেন তোমাকেই পাই
সাত জন্মের স্বামী।
[মিতিল চক্রবর্তী]

Friday, 7 March 2014

আশঙ্কা

কবিতা পাখি কি উড়ে গেলি ওরে?
তোকে ছাড়া আমি বাঁচব কি করে?
কলম,দোয়াত পড়েই আছে।
আয় না ফিরে আমার কাছে।
বন্ধু যে কবে শত্রু হয়ে গেল।
পথের বাঁকে মুখ ফেরাল।
তুইও কি আজ কানামাছি হবি?
আমায় ভুলে যাকে পাবি ছুঁবি?
গায়ে রঙ মেখে আর দোল খেলব না।
সাদা পাতাগুলো এসে রাঙিয়ে দে না।
কোকিলের ডাক শুনে উদাস যে মন।
বয়ে যায় কেন হায় এমন লগন?

Friday, 28 February 2014

সাধ
মিতিল চক্রবর্তী

আমি এক সাদা খাতা।
আবিরের রঙ এখনো লাগে নি গায়ে।
কোন উদীয়মান কবি লেখে নি
কাব্যকাহিনি আমার পাতায়।
সদ্য শিল্পী কাটে নি আঁচড়
খোঁড়ে নি হৃদয় আমার বুক চিরে।
বিবর্ণ পতিত জমি আমি।
ফসলের সম্ভাবনায় বুক বাঁধি।
যখন বর্ষণক্লান্ত হয় শহর,
আমার চোখেও ওঠে কান্নার ঢেউ।
কাশের বনে যখন হাওয়ার কানাকানি
আমিও সাদা মেঘ হয়ে থাকি।
বসন্তের মাতাল হাওয়া যখন বয়ে যায়
 উদাস মন বাতাস ছুঁতে চায়।
রামধনু রঙ মাখার স্বপ্ন বুকে বাঁচি।
জানি আসবে সুদিন।সবটুকু সাদা
রাঙিয়ে দেবে কোন এক মরমিয়া।
বিষাদ ডানা মেলে উড়ে যাবে সুদূরে।



Thursday, 27 February 2014

দেওয়াল
মিতিল চক্রবর্তী

পলেস্তারা খসে যাওয়া নোনা ধরা দেওয়াল,
তবু শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে আছি।
গায়ে আমার শ্যাওলার পরিধান।
উইয়ের ঢিবি বুকে নিয়ে বেঁচে আছি।
ফাটলে ফাটলে মৃত্যুর পরোয়ানা।
মাধবীলতা এক হঠাত জড়িয়ে উঠল গা বেয়ে।
মাথাটা নুইয়ে রইল লজ্জায়।
এর আগে অপাঙক্তেয় মনে হয়েছিল নিজেকে।
কেউ আজও স্বনির্ভর হতে পারে নি।
মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বলতে ইচ্ছে করে
আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছো তুমি,
তোমার জন্যই যুগ যুগান্ত বেঁচে থাকা।

Wednesday, 26 February 2014


অপাঙক্তেয়
মিতিল চক্রবর্তী

শবাসনে পড়ে আছি।
ধড়ে যেন নেই প্রাণ,
হৃদয় বলে কিচ্ছু নেই।
অবলীলায় মাড়িয়ে যাচ্ছে সবাই।
কোনদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।
পরনের বস্ত্র শতচ্ছিন্ন,
লজ্জা নিবারণে নিরুপায়।
রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছি।
পাই নি সহৃদয়তার মলম।
জন্মান্ধ পথিকের দল হেঁটে চলেছে,
মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেছে।
নেই কোন স্মৃতিবিদূরতা।
হঠাত এক পথিক এসে থমকে গেল।
কপালে একটু হাত বুলিয়ে
ডেকে আনল দুই দরদীকে।
এ কি মানুষ না দেবতা?
কাটে নি এখনো বিস্ময়ের ঘোর।
এ কি বাস্তব নাকি স্বপ্নিলতা?



Monday, 24 February 2014


উত্তরণ

মণিমাণিক্য, হীরে জহরত নয়
হৃদয় দিতে চেয়েছিলাম তোমায়।
নেবার ভান করে ছুঁড়ে ফেলে দিলে।
মেঘ হয়ে ভেসে গেলাম আকাশে।
বৃষ্টির অঝোর ধারায় নেমে এলাম।
জমা জলে ভাসিয়ে দিল নৌকা
অন্য কেউ এক বৃষ্টিদিনে।
পুনর্জন্ম হল আমার।
আমি যে এত দামী
এর আগে বুঝিই নি কখনো।
আয়নায় দেখি নিজের প্রতিবিম্ব।
এত সুন্দর আগে তো লাগে নি আমায়।

ভালোবাসা কি শরীরের খুঁত ঢেকে দেয়?